প্ল্যাটফর্মের বাইরে ট্রেন থামে,রেলস্টেশনে নেই স্টেশন মাস্টার। ট্রেন দাঁড়ায় প্ল্যাটফর্ম ছাড়াই ২ নম্বর লুপলাইনে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। তাঁদের কষ্ট করে ট্রেনে উঠতে হয়। ভোগান্তিতে পড়েন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ লোকজন।

প্ল্যাটফর্মের বাইরে ট্রেন থামে
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বেতন না পাওয়ায় স্টেশন মাস্টার (টিএলআর) তপন কুমার চক্রবর্তী ২৯ এপ্রিল চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। ফলে ৩০ এপ্রিল থেকে হিলি রেলস্টেশনে বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও রকেট এক্সপ্রেস ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছাড়াই ২ নম্বর লুপলাইনে
দাঁড়াচ্ছে। স্টেশন মাস্টার না থায় গত শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে করে নাটোরে যাওয়ার জন্য মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করছিলেন হাকিমপুর পৌর শহরের জালালপুর এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব আলী মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে শুনলাম বরেন্দ্র ট্রেন ২ নম্বর লাইনে দাঁড়াবে। সেখানে কেন দাঁড়াবে জানি না। আমার মেয়ে রাজশাহী যাবে। প্ল্যাটফর্ম ছাড়া তাঁর জন্য ট্রেনে ওঠা তো অনেক কষ্টকর।’
স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ট্রেনে করে হিলি থেকে রাজশাহী যাবেন রাজশাহীর বাগমারার বাসিন্দা তিনি বলেন, ‘বউ-বাচ্চা নিয়ে রাজশাহী যাব। সঙ্গে ব্যাগ আছে। প্ল্যাটফর্ম ছাড়া এভাবে ট্রেনে উঠতে খুবই ভোগান্তি হবে। যাত্রীদের কষ্টের কথা চিন্তা করে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’
পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলার আটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলেন, ‘২ নম্বর লাইনোত ট্রেন থামবে আগোত জানলো তো হামরা
পাঁচবিবি স্টেশনোত থেকে ট্রেনোত উঠলাম হনে। কষ্ট তো হবেই। বস্তা-টস্তা লিয়ে ট্রেনোত কী রকম করে উঠমো। স্টেশনোত তো ঠিকমোতন বসার জায়গাও নাই।’
রেলস্টেশন–সংলগ্ন উত্তর পাশে হিলি অভিবাসন দপ্তর (ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট)। এটি দেশের ব্যস্ততম স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে একটি। একসময় এ স্টেশনটি যাত্রীর পদচারণায় মুখর ছিল। তবে এখন এখানে সব ট্রেন থামে না। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নেই যাত্রী ছাউনি। নেই যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা।

টিকিট কাউন্টারের পাশে নামাজের ঘর। ওই ঘরের মেঝেতে ছেয়ে আছে গাছের শুকনা পাতা, ময়লা কাগজ ও পাখির বিষ্ঠা। আর যাত্রীদের যেখানে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানকার পরিবেশ অনেক নোংরা।
হিলি রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ‘হিলি স্টেশনে একজন বুকিং সহকারী, তিনজন পয়েন্টম্যান ও দুজন গেটম্যান দিয়েই চলছে এ স্টেশন। স্টেশন মাস্টার না থাকায় উত্তরে বিরামপুর রেলস্টেশন ও দক্ষিণে পাঁচবিবি রেলস্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে হিলি রেলস্টেশনটি। দুই স্টেশনের নিয়ন্ত্রণেই ট্রেনের চালক ট্রেন থামাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে হিলি রেলস্টেশনে নির্ধারিত তিনটি ট্রেনের জন্য কোনো সিগনাল নামছে না বা পড়ছেও না।
হিলি রেলস্টেশনের বুকিং সহকারী নয়ন বাবু বলেন, ‘হিলি রেলস্টেশনের অস্থায়ী স্টেশন মাস্টার (টিএলআর) ২৯ এপ্রিল চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পরদিন থেকে দুটি ডাউনলাইন ও একটি আপলাইনসহ তিনটি ট্রেন ২ নম্বর লুপলাইনে দাঁড়াচ্ছে। আমি শুধু টিকিট বিক্রির বিষয়টি দেখাশোনা করছি। নতুন স্টেশন মাস্টার কবে নিয়োগ দেওয়া হবে তা জানি না। তবে এ বিষয়ে পাকশী রেলওয়ে দপ্তরের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ভালো বলতে পারবেন।’
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘হিলি রেলস্টেশনে অস্থায়ী ভিত্তিতে (টিএলআর) একজন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি দৈনিক ৫৫০ টাকা হারে মজুরি পেতেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বাজেট পেতে দেরি হওয়ার কারণে স্টেশন মাস্টারকে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে খুব শিগগিরই সেখানে স্থায়ীভাবে একজন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন বলেন, ‘হিলি রেলস্টেশনে এ ভোগান্তি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিললেও সমাধান হয়নি। কয়েক মাস আগে প্রায় ছয় হাজার লোকের স্বাক্ষর নিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর নিকট পাঠানো হয়েছে, এতেও কাজ হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য খুব শিগগিরই হাকিমপুর উপজেলার সব বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সবাই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাইব।’
আরও পড়ুন:
১ thought on “প্ল্যাটফর্মের বাইরে ট্রেন থামে”