দিনাজপুরের মহেশ কোঠা গ্রামে চলছে নবান্ন উৎসব মেলা

নবান্ন উৎসব মেলা – দিনাজপুর সদরের মহিষকোঠা গ্রামের তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসবের মেলা শুরু হয়েছে। এই মেলায় নাগরদোলা, মিষ্টি-মণ্ডা, চুড়ি-ফিতা, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান এসেছে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে এই গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে আত্মীয়-স্বজন বিশেষ করে জামাই মেয়ে নাতিপুতি উপস্থিত হয়েছে।

 

দিনাজপুরের মহেশ কোঠা গ্রামে চলছে নবান্ন উৎসব মেলা

 

মেলায় সকাল থেকে চলছে বিভিন্ন রকমের গ্রামীণ খেলাধুলা। এতে অংশগ্রহণ করছেন জামাই মেয়ে নাতি পুতিসহ এই গ্রামের জনসাধারণ। মেলায় চলছে আব্দুল লতিফ-নূরজাহান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। অনেক যুবক স্বেচ্ছায় এই রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় মহিষকোঠা ধান কেটে নিয়ে যাবার পর খালি মাঠে তিন দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়। নবান্ন উৎসব মেলায় বেগম তৈয়বা মজুমদার রক্তকেন্দ্রের সহযোগিতায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আব্দুল লতিফ-নূরজাহান ফাউন্ডেশনের আহবায়ক আলহাজ্ব মো. আলমগীর হোসেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

দীর্ঘ প্রায় ৩শ’ বছরের অধিক সময় ধরে নবান্ন উত্সব পালন করে আসছে মহিষকোঠা গ্রামের মানুষ। তারই ধারাবাহিকতায় এই নবান্ন উৎসব। ওই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে উৎসবের আয়োজন করা হয়। মেয়ে জামাই, নাতি নাতনিসহ সব আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেয়া হয়। দাওয়াত পেয়ে সবাই মহিষকোটা গ্রামে চলে আসেন। প্রতিটি বাড়িতে পিঠাপুলিসহ ভাল খাবারের আয়োজন করা হয়। যার যার সামর্থানুযায়ী মেয়ে জামাই, আত্মীয়-স্বজনের জন্য এসব আয়োজন করে। টানা ৩দিন ঐতিয্যবাহী এই উৎসব পালন করা হয়।

এদিকে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মাঠে গ্রামীণ মেলা বসেছে। মেলায় খাবারসহ বিভিন্ন পন্যসামগ্রী নিয়ে দোকানীরা তাদের দোকান সাজিয়েছন। এখানে বেচাকেনাও বেশ ভাল হয় বলে জানিয়েছেন মেলার আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

উল্লেখ্য, সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আলমগীর হোসেনের মরহুম পিতা মাতার নামে আব্দুল লতিফ-নূরজাহান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 

আরও পড়ুন:

Leave a Comment