আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় দিনাজপুর জেলার হাট-বাজার, দিনাজপুর জেলা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে রংপুর বিভাগের অন্তর্গত ।
দিনাজপুর জেলা সর্ম্পকে কিছু তথ্যঃ-
দিনাজপুর জেলা ১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি আছে, জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নামানুসারেই রাজবাড়িতে(রাজবাটী) অবস্থিত মৌজার নাম হয় “দিনাজপুর”। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার সম্মানে জেলার নামকরণ করে “দিনাজপুর”। দিনাজপুর-জেলার উত্তরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও পঞ্চগড় জেলা, দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা ও জয়পুরহাট জেলা, পূর্বে নীলফামারী জেলা ও রংপুর জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। এই জেলার মোট আয়তন প্রায় ৩৪৩৮ বর্গ কিলোমিটার।

দিনাজপুর জেলার হাট-বাজার:-
হাট-বাজারের-তালিকা
| ক্রমিক | নাম | আয়তন | তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তি | চান্দিনা ভিটির সংখ্যা | ইজারা মূল্য | ঠিকানা |
| ১ | ডাংগার হাট-বাজার | ১,২৫,৮০০/- | ডাংগার হাট-বাজার, খানসামা, দিনাজপুর। | |||
| ২ | চৌরঙ্গী হাট-বাজার | ৪২,৫০০/- | চৌরঙ্গী হাট-বাজার, খানসামা, দিনাজপুর। | |||
| ৩ | পাকের হাট-বাজার | ৪০,১০,০০০/- | পাকের হাট-বাজার, খানসামা, দিনাজপুর। | |||
| ৪ | বুড়ির হাট-বাজার | ২,২২৫/- | বুড়ির হাট-বাজার, খানসামা, দিনাজপুর। | |||
| ৫ | কালীর হাট-বাজার | ১৩,৫০০/- | কালীর হাট-বাজার, খানসামা, দিনাজপুর। | |||
| ৬ | জমিদারনগর হাট-বাজার | ৭,৭০০/- | জমিদারনগর হাট-বাজার, খানসামা, দিনাজপুর। | |||
| ৭ | কাচিনিয়া হাট-বাজার | ৯,১৯,৫০০/- | কাচিনিয়া হাট-বাজার, খানসামা, দিনাজপুর। |
ব্রিটিশ শাসনামলে দিনাজপুর জেলা
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি গ্রহণের ফলে দিনাজপুর জেলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণভুক্ত হয়। ১৭৭২ সালে দিনাজপুরে একজন ইংরেজ কালেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সময় এই অঞ্চলের অরাজকতার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৭৮৬ সালে এখানে ইংরেজ শাসকদের দ্যা ব্রিটিশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কন্ট্রোল (The British Administrative Control) গঠিত হয়। সেই সময় লক্ষ্ণৌতি, বাজিন্নাতাবাদ, তেজপুর, পানজারা, ঘোড়াঘাট, বারবকাবাদ ও বাজুহা, এই ছয়টি সরকারের অংশ নিয়ে দিনাজপুরজেলা (তখনকার ঘোড়াঘাট জেলা) গঠিত হয়।
দিনাজপুর সদরে জেলা সদর গঠিত হয়। ১৭৮৬ সালে ম্যারিয়ট নামে একজনকে কালেকটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর রেড ফার্ন ও ভ্যানসিটার্ট অল্প সময়ের জন্য দিনাজপুরের কালেকটর নিযুক্ত হন। পরবর্তী কালেকটর হ্যাচ জেলার বিচারের কাজেও নিযুক্ত হন। সেই সময় জেলা প্রশাসনের সীমানা মালদা ও বগুড়ার দিকে অগ্রসর হয়। আঠারো শতকের শেষ দিকে দিনাজপুরে নীল চাষ শুরু হয়।

দিনাজপুর ছিল অবিভক্ত বাংলার সর্ববৃহৎ জেলা। বগুড়া, মালদা, রাজশাহী, রংপুর ও পূর্ণিয়া জেলার বেশকিছু অংশ তখন দিনাজপুরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৫৭-৬১ সালের জরিপ অনুসারে দিনাজপুর জেলার আয়তন ছিল ৪,৫৮৬ বর্গমাইল (১১,৮৮০ কিমি২)। প্রশাসনিক ও আইন প্রয়োগের সুবিধার্থে ১৭৯৫ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে জেলার একটি বিশাল অংশ রাজশাহী, রংপুর ও পূর্ণিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৮৩৩ সালে আবার বেশ কিছু এলাকা বগুড়া ও মালদায় চলে যায়। পরবর্তীতে ১৮৬৪-৬৫, ১৮৬৮ ও ১৮৭০ সালে আরো এলাকা মালদা ও বগুড়া জেলার অধীনে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষে ১৮৯৭-৯৮ সালে সম্পূর্ণ মহাদেবপুর থানাকে রাজশাহীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই সময় শুধু ঠাকুরগাঁও উপবিভাগ ব্যতীত সম্পূর্ণ দিনাজপুরজেলা কালেকটরের অধীনে শাসিত হতো।

১৮৫৬ সালে দিনাজপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলার প্রথম দিককার ৪০টি পৌরসভার মধ্যে এটি অন্যতম। শুরুতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টাউন কমিটি পৌরসভা শাসন করত। পরবর্তীতে ১৮৬৮ সালে ‘জেলা শহর আইন’-এ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের বদলে একজন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার বিধান রাখা হয় এবং চেয়ারম্যানকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের সমমর্যাদায় আসীন করা হয়। ১৮৬৯ সালে প্যাটারসন নামক একজনকে দিনাজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়।
১৯৪৬-৪৭ সালের তেভাগা আন্দোলনে দিনাজপুরজেলার মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
আরও পড়ুূনঃ