আদিবাসীদের বনধ ঘিরে উত্তপ্ত দক্ষিণ দিনাজপুর, সরকারি বাসে আগুন

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের চেষ্টার অভিযোগে উত্তাল দক্ষিণ দিনাজপুর। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ১২ ঘণ্টার জেলা বনধের ডাক দেয় একাধিক আদিবাসী সংগঠন। এদিন বনধকে ঘিরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হরিরামপুর। দূরপাল্লার সরকারি বাস থামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন বনধ সমর্থনকারীরা।

 

আদিবাসীদের বনধ ঘিরে উত্তপ্ত দক্ষিণ দিনাজপুর, সরকারি বাসে আগুন

 

সোমবার জেলা বনধের ডাক দিয়ে আবার বনধ প্রত্যাহার করে নেয় একটি আদিবাসী সংগঠন। সোমবার বনধ হবে না বলে মাইকিং করা হয়। কিন্তু এদিন সকালেই বনধ সমর্থনকারীরা গঙ্গারামপুর থেকে কালনাগামী দক্ষিণবঙ্গের একটি সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর বনধ প্রত্যাহারকারী এবং জেলা প্রশাসনকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেয় তারা। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন বাসচালক রফিকুল মণ্ডল। হরিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করে চালক জানান, সকালে গঙ্গারামপুর থেকে ২০-২৫ জন যাত্রী নিয়ে কালনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

 

দক্ষিণ দিনাজপুর

 

৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে পড়তিপাড়া মোড়ের কাছে বাস থামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন বনধ সমর্থনকারীরা। দ্রুত গতিতে থাকা বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলির ধারে চলে যায়। আদিবাসীদের ডাকা বনধের দিনে কেন গাড়ি চালানো হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে বাসের কাচের ভেঙে দেন বনধ সমর্থনকারীরা। প্রাণ হাতে নিয়ে কোনওরকমে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে পালিয়ে যান।

এরপর বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নেভায়। সেই সময় কয়েকজন বনধ সমর্থনকারী ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। আইসি অভিষেক তালুকদার জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাঁসুয়া, বাঁশ-লাঠি, লোহার রড পাওয়া গিয়েছে।’

ইউনাইটেড ফোরাম অফ আদিবাসী অর্গানাইজেশন জেলা কমিটির কোঅর্ডিনেটার মদন মুর্মু বলেন, ‘আমরা সমর্থন করিনি। বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ বেআইনি। পুলিশ আইনানুগ পদক্ষেপ নিক।’ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী দূর্গা সোরেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এসপি চিন্ময় মিত্তাল বলেন, ‘বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। বনধের কারণে সরকারি-বেসরকারি বাস তেমন চলাচল করতে দেখা যায়নি। হিলি, বালুরঘাট থেকে শুরু করে গঙ্গারামপুর, কুমারগঞ্জ, বংশীহারি, তপন, কুশমণ্ডি এমনকি হরিরামপুর ব্লকেও জনজীবন স্বাভাবিক ছিল।’

 

আরও পড়ুন:

Leave a Comment