দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আড়াই মাস বন্ধের পর আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু হয়েছে। এতে দেশের বাজারে আলুর দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
আলু আমদানি শুরু, কমেছে দাম
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১টায় ভারত থেকে দুটি ট্রাক দেশে প্রবেশের মধ্য দিয়ে বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়। বাংলাদেশের প্রিয়ম এন্টারপ্রাইজ ভারত থেকে ৪৭ মেট্রিক টন আলু আমদানি করেছে। এগুলো রফতানি করেছে ভারতের সারথি এক্সিম প্রাইভেট লিমিটেড।
হিলি স্থলবন্দরের আলু আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আলু আমদানিতে শুল্ক অতিরিক্ত ও ভারতে দাম বেশি থাকায় পড়তা না পড়ায় এতদিন আমদানি বন্ধ রেখেছিলেন আমদানিকারকরা। এতে সম্প্রতি দেশের বাজারে দাম বেড়ে যায়। এ অবস্থায় সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানির ওপর থেকে শুল্ক কিছুটা কমিয়ে দেয় সরকার।

৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। এতে পড়তা পড়ায় আবারও আমদানিশুরু করেন ব্যবসায়ীরা।’
আজ ৪৭ টন আলু আমদানি হয়েছে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আড়াই মাস বন্ধের পর আমদানি শুরু হলো। আরও প্রচুর আলুবাহী ট্রাক ভারতে পাইপলাইনে আছে। আগামীকাল দেশে ঢুকতে পারে। আমদানিকৃত এসব আলু ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হবে। আমদানি আরও বাড়লে দামও কমে আসবে।’
বুধবার বিকালে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানির খবরে হিলির খুচরা বাজারে কেজিতে দুই-তিন টাকা করে কমেছে দাম। একদিন আগে গুটি জাতের আলু ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ ৪৭-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কার্টিনাল আলু ৪৮ টাকায় বিক্রি হলেও আজ দাম কমে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সর্বশেষ গত ৮ জুলাই ভারত থেকে দেশে আলু এসেছিল। এরপর থেকে বন্ধ ছিল। আমদানির অনুমতি থাকলেও পড়তা না পড়ায় ব্যবসায়ীরা এতদিন আমদানি করেননি। ৫ সেপ্টেম্বর শুল্ক কমিয়ে দেয় সরকার। এরপর থেকে অনুমতি চেয়ে অনেক আমদানিকারক আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন কয়েক হাজার টন আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। সেগুলো দেশে আসতে শুরু করেছে।’
আরও পড়ুন: